ই-কমার্স ব্যবসার (e Commerce Business) ভালো মন্দ

ই-কমার্স ব্যবসা (e Commerce Business) শুরু করার পূর্বে এ সম্পর্কে ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতির আশংকা সবকিছু আমলে নিয়ে খুব ভালোভাবে ভেবে চিন্তে অগ্রসর হওয়া উচিত। এ ব্যপারে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এবং অনলাইনে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন রিসোর্স গুলো ভালোভাবে পড়ে বুঝে তারপর শুরু করা উচিত। আমরা এখানে ব্যবসা শুরু থেকে ব্যবসা পরিচালনা ও একটি সফল ব্যবসা গড়ে তোলা পর্য্যন্ত কি কি ধাপ অনুসরন করা উচিত তার উপর কিছু আলোচনা করেছি।

ই-কমার্স ব্যবসার (e Commerce Business) উপর স্বচ্ছ ধারণা থাকা

এটি হচ্ছে ব্যবসা শুরুর সবচেয়ে প্রাথমিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যাকে ব্যবসার ভিত্তি বলে অভিহিত করা যায়। আপনি কি করবেন, কি করতে যাচ্ছেন তাই যদি না জানেন তবে তা থেকে কি ফল আশা করতে পারেন? কাজেই প্রথমেই আপনাকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে আদ্যপান্ত, ভালো-মন্দ সবকিছু বিচার বিশ্লেষন করে নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৈাছতে হবে।

  • ই-কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে আপনার ধারণা কতটুকু?
  • এটা আপনার মনের মতো কিনা ?
  • এতে আপনি মন থেকে লেগে থাকতে পারবেন, নাকি কিছুদিন পর অনীহা বোধ করবেন?
  • আপনি যে পণ্য বিক্রি করতে চাচ্ছেন তার বাজার চাহিদা কেমন?
  • প্রাথমিকভাবে কত টাকা  বিনিয়োগ করতে হবে এবং তা আপনার আছে কিনা?
  •  কিভাবে আপনার সেবা বা পণ্যের মার্কেটিং করবেন?
  • লাভ এবং ক্ষতির সম্ভাবনা কতটুকু?

এই ব্যাপারগুলো আপনাকে খাতা কলমে পূঙ্খানুপূঙ্খ হিসাব নিকাশ করে তবেই আপনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে আপনার স্বপ্নের ইকমার্স ব্যবসা শুরু করতে পারেন। আপনি জেনে অবাক হবেন যে Shopify তে ৫০% ব্যবসা, শপ বা ই-কমার্স ব্যবসাই প্রথম সেল করার পূর্বেই বন্ধ হয়ে যায়। কারন মনে চাইলো তাই ভালো লাভের আশায় ভালো-মন্দ, লাভ-ক্ষতির চিন্তা না করে অপরিকল্পিত ভাবে একটি ব্যবসা শুরু করা।

ই-কমার্স ব্যবসার (e Commerce Business) পণ্যসামগ্রীর যোগান

অনলাইনে ব্যবসা সাধারণত দুই ধরনের হয়ঃ

  1. কোন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় করা ও
  2. গ্রাহকের কাছে কোন সেবা (সার্ভিস) বিক্রয় করা।

তাই আপনাকে প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে আপনি আসলে কোনটি করতে চাইছেন, যদি পণ্য সামগ্রী বিক্রি করাই হয়ে থাকে আপনার লক্ষ্য তবে আপনি কি ধরনের পণ্য যেমন ইলেকট্রোনিক্স, মোবাইল, মোবাইল এক্সেসরিজ, রেডিমেইড গার্মেন্টস (ছেলেদের, মেয়েদের বা বাচ্চাদের পোষাক) জুতা, ঘড়ি, কসমেটিক্স, বিউটি এন্ড স্কিন কেয়ার সামগ্রী, হোম ডেকোর, বার্থ-ডে আইটেম, শো পিস, চামড়াজাত দ্রব্য বা এই প্রকারের কোন পণ্য সামগ্রী আপনার পছন্দ তা প্রথমে ঠিক করে নিন।

পাইকারী বিক্রয়কারীর সন্ধান

তারপরের কাজ হবে আপনার পছন্দের পণ্য সামগ্রীর পাইকারী বিক্রয়কারীর সন্ধান করা, যারা কম মূল্যে আপনাকে প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রীর যোগান দিতে পারবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন লোকাল ব্যবসা সম্পর্কিত পেইজ এবং গ্রুপে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এতে ত্বরিত সাড়া পাবেন। এর বাইরেও গুগল শপিং এ ঢু মারতে পারেন যেখানে পণ্যের নাম লিখে সার্চ দিলে সে পণ্যের বিস্তারিত বিবরণের পাশাপাশি এর রিটেইলার ও স্থানীয় যোগানদারদের কন্ট্রাক্ট ইনফরমেশন পাবেন।

e Commerce Business – পন্য বিক্রির নীতিমালা

আপনি আপনার ই-কমার্স সাইটে পণ্যসামগ্রী কিভাবে বিক্রয় করতে চাচ্ছেন? কারণ ইকমার্স সাইটে পণ্য বিক্রির কতগুলো প্রকারভেদ আছে। যেমন- আপনি পাইকারী বিক্রেতার কাছ থেকে হ্রাসকৃত মূল্যে পণ্য কিনে তা খুচরা বিক্রি করতে পারেন।অথবা আপনি হোলসেলার হিসেবে খুব বড় মাপের কোন লট কিনে তা ‍কিছু লাভ রেখে আবার অন্য পার্টির কাছে পাইকারি হিসেবে বিক্রি করতে পারেন। এর জন্য নির্ধারিত কিছু সাইটই আছে। যেমন- আলিবাবা, Costco, Doba, Dropship Direct ইত্যাদি।

e Commerce Business – পণ্যের ক্রেতা নির্ধারণ করা

e Commerce Business এর জন্যে পণ্যের ক্রেতা নির্ধারণ করা অন্যতম প্রধান কাজ। আপনি যে পণ্য সামগ্রী নিয়ে ইকমার্স ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন, তার জন্য টার্গেটেড ক্রেতা চিন্থিত করে নেয়া যাতে পণ্যের বাজারজাতকরন সহজ ও সাবলীল হয়। যেমন- পণ্য যদি হয় লেডিস ওয়্যার হয় তবে ক্রেতা অবশ্যই মেয়েরা, বাচ্চাদের পোষাকের জন্য ক্রেতা অবশ্যই বাচ্চাশ্রেনী। আবার হোম ডেকোরের জন্য অভিজাত শ্রেণীর ক্রেতারাই হবে লক্ষ্য। কাজেই কোন শ্রেনীর ক্রেতা আপনার লক্ষ্য, কোন পণ্য আপনি সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিক্রি করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে নিয়ে তবেই কাজ শুরু করা উচিত।

ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করা

ইকমার্স ব্যবাসা (e Commerce Business) মানেই অনলাইনে ব্যবসা যেখানে আপনার পণ্যের উপস্থাপন ও প্রদর্শিত  হবে। কাজেই তার জন্য আপনার একটি ভিত্তি বা অবলম্বন দরকার যেখানে এই পণ্যগুলো কাষ্টমারদের কাছে প্রদর্শন করবেন। আর এই কাজটাই করে ইকমার্স ওয়েবসাইট, যেটি কিনা অনলাইনে আপনার পণ্যের একটি শোরুম বা দোকান। কাজেই ইকমার্স ব্যবসার জন্য আপনার একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট থাকা অপরিহার্য। আর এটি যত সুন্দর দৃষ্টিনন্দন ও তথ্যবহুল হবে ততই ব্যবসার টার্ন্ওভার বাড়বে। এই ইকমার্স ওয়েবাসাইট আপনি কোন ওয়েব ডিজাইনার বা ডিজাইনার কোম্পানীকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে করিয়ে নিতে পারেন, বা আপনার বাজেট যদি কম হয় তবে অনলাইনে কিছু রিসোর্স ঘাটাঘাটি করে ফ্রিতে নিজেই একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে ম্যাজেণ্টো হবে সবচেয়ে উপযোগী যে কোন ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরির জন্য।

e Commerce Business – ফেসবুক মার্কেটিং    

ইকমার্স ব্যবসার জন্য একটি ওয়েবসাইট যেমন অপরিহার্য তেমনি এ সম্পর্কিত একটি ফেসবুক পেজও অত্যন্ত জরুরি। পণ্যসামগ্রী বা সেবার মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুকের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোটা এখন সময়ের অপচয়। আপনার পন্য বা সেবার মার্কেটিং এর জন্য ওয়েবসাইট যেমন উপকারী, তেমনি ফলপ্রদ হচ্ছে ফেসবুকে প্রচারণা। যার ভিত্তি হচ্ছে ফেসবুক পেইজ।

আর ফেসবুকে প্রচারণা চালানোর জন্য দুইটি টেকনিক র‍য়েছে –  ফ্রি ও পেইড। প্রথমে ফ্রি টেকনিক  নিয়ে আলোচনা করা যাক। আপনি ফ্রিতে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ পেইজে গিয়ে আপনার পণ্যের বা সেবার বিস্তারিত লিখে পোষ্ট করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সবার আগে ওপেন গ্রুপগুলো খুজে বের করুন।  কারন এই গ্রুপ গুলোতে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার প্রচারণা চালাতে পারেন কিন্তু অন্য গ্রুপগুলোতে যদি এ্যাডমিন আপনার পোষ্ট এলাউ করে তবেই আপনার পোষ্ট পাবলিশ হবে। আর পেইড টেকনিকে আপনি আপনার পেইজ বুষ্ট করতে পারেন, এক্ষেত্রে যা খরচ করবেন তার চেয়ে বেশী রিটার্ন পাবেন নিসন্দেহে।

 

By | 2017-09-25T10:04:54+00:00 September 16th, 2017|ই-কমার্স|

Leave A Comment