ই-কমার্স ওয়েবসাইট (eCommerce Website) -এর খুঁটিনাটি তথ্য

চারদিকে e Commerce -এর ছড়াছড়ি কোথায় কি ভাবে e Commerce business শুরু করবেন তাই ভেবে পাচ্ছেন না, আবার একেক জনের কাছে একেক রকম তথ্য পাচ্ছেন। এই পোস্টটি পড়ে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন আপনি কি করবেন। লেখার ভুল ত্রুটি হলে প্রথমে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

 eCommerce Website  কি?

ই-কমার্স ওয়েবসাইট (eCommerce Website) -এ ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। আধুনিক ইলেকট্রনিক কমার্স সাধারণত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা করে। এছাড়াও মোবাইল কমার্স, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ও অন্যান্য আরো কিছু মাধ্যম ব্যবহৃত হয়।

ই-কমার্স ব্যবসার ধাপ সমূহঃ

  • পণ্য ও সেবা কেনা-বেচা।
  • মূল্য পরিশোধ।
  • পণ্য নিলাম।
  • বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এর পণ্য ও সেবার মূল্যের তুলনামূলক বিশ্লেষন।
  • টিকেট ক্রয়।
  • পণ্য ও সেবা অর্ডার ও বুকিং দেয়া।
  • অনলাইন বিজ্ঞাপন বাণিজ্য ইত্যাদি।

মাধ্যম  উপকরণ সম্পর্কিত বিষয়সমূহ

বিক্রেতার জন্যঃ

  • ই-কমার্স উপযোগী ওয়েবসাইট।
  • দ্রুত ও কার্যকরভাবে অর্ডার প্রক্রিয়া করার জন্য ইন্ট্রানেট ও সার্ভার।

মধ্যবর্তী মাধ্যমঃ

  • ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার,ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মূল্য প্রদানের ও সমধর্মী সেবা প্রদানকারী ব্যাংক প্রতিষ্ঠান।
  • দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনকারী প্রতিষ্ঠান।

গ্রাহকের জন্যঃ

  • ইন্টারনেট সুবিধা।
  • মূল্য পরিশোধের জন্য ক্রেডিট কার্ড বা পেমেন্ট গেটওয়ে

ই-কমার্সের প্রকারভেদ

  • ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (B2B): ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা ই-কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। ৮০ শতাংশের (৮০%) মত ইলেকট্রনিক কমার্স ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা প্রকার এর অন্তর্ভুক্ত।
  • ব্যবসা-থেকে-গ্রাহকঃ ব্যবসা-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে। এই প্রকারে দ্বিতীয় সর্বাপেক্ষা বেশি ইলেকট্রনিক বাণিজ্য সম্পাদন হয়ে থাকে।
  • ব্যবসা-থেকে-সরকার (B2G): ব্যবসা-থেকে-সরকার ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় খাতের মধ্যে। এটি সাধারনত ব্যবহৃত হয়ে থাকে রাষ্ট্রীয় কেনা/বেচা, লাইসেন্স সংক্রান্ত কার্যাবলী, কর প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
  • গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক (C2C): গ্রাহক-থেকে-গ্রাহক ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় একাধিক ব্যক্তি ও গ্রাহকের মধ্যে। ইলেকট্রনিক বাজার ও অনলাইন নিলাম এর মাধ্যমে সাধারণত এই ধরনের বাণিজ্য সম্পাদিত হয়।
  • মোবাইল কমার্স (m-commerce): মোবাইল কমার্স ইলেকট্রনিক কমার্স সম্পাদিত হয় তারবিহীন প্রযুক্তি যেমন মোবাইল হ্যান্ডসেট বা পারসোনাল ডিজিটাল অ্যাসিস্টেন্ট (PDA) এর মাধ্যমে। তারবিহীন যন্ত্রের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের গতি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ধরনের বাণিজ্য জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

 কেনাকাটার ক্ষেত্রে eCommerce Website -এর সুবিধাগুলো কি কি?

১. ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পন্য অর্ডার করা যায়।

২. অনলাইনের মাধ্যমেই মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়া যায়।

৩. মূল্য পরিশোধের জন্য ক্রেডিট কার্ড, মাস্টার কার্ড, ভিসা কার্ডসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করা যায়।

৪. পন্যের দ্রুত ডেলিভারি পাওয়া যায়।

৫. পন্য হাতে পেয়েও মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

৬. পন্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিশ্রম কম হয় এবং প্রচুর সময় বাঁচানো যায়।

ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে eCommerce Website -এর সুবিধাগুলো কি কি?

১. অনলাইনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করা যায়।

২. অনলাইনের মাধ্যমেই মার্কেটিং করার ব্যবস্থা রয়েছে।

৩. সহজেই গ্রাহকদের কাছে পন্য সেবা পৌঁছানো যায়।

৪. বড় ধরনের কোন অফিসের প্রয়োজন হয় না।

৫. অনেক কর্মচারী রাখার প্রয়োজন হয় না।

৬. ব্যবসা পরিচালনা করা সহজ এবং লভ্যাংশের পরিমান বেশি।

কীভাবে নিজের ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন?

ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট থাকা প্রয়োজন। আর আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইনই আপনার ভার্চুয়াল স্টোর কতটা সফল কিংবা বিফলে যাবে সেটা নির্ধারণ করে। ডিজাইন বলতে আপনার সাইট দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে হবে এমনটা বুঝায়নি। আপনার সাইট User Friendly হতে হবে যাতে সহজেই কাস্টমার তার পছন্দের পণ্যটি খুঁজে পেতে পারে। আপনার সাইটটি বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। সাইটটি দিনে ২৪ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে ৭ দিন অ্যাক্সেসেবল হতে হবে এবং দ্রুত পেজ লোড হতে হবে।

eCommerce Website তৈরিতে খরচ কেমন হবে?

  • ডোমেইন  হোস্টিং: ডোমেইন চেক করার জন্য whois.com  এ সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। ডোমেইন ও হোস্টিং মূল্য  প্রায় ৩ হাজার থেকে শুরু করে  ১৫-২০ হাজার (হোস্টিং অনুযায়ী মূল্য বেশি হতে পারে) ।
  • ওয়েব ডেভেলপমেন্ট: সি এম এস (ওয়ার্ডপ্রেস, ওপেনকার্ট আর অন্যান্য ) বা পিএইচপি এর মাধ্যমে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করতে পারেন।

eCommerce Website তৈরির পরবর্তী কাজসমূহঃ

সাপ্লাইন চেইন ঠিক করা

ঠিক করতে হবে প্রোডাক্ট কোথা থেকে আসবে অথবা কিনবেন অথবা নিজেই বানাবেন কিনা। স্টক কিভাবে মেইনটেইন করবেন,  অর্ডার হওয়ার পর কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌছাবেন । 

মার্কেটিং

সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন ধাপ। অনলাইনে কেনাবেচা করা শুরু করার অর্থই হলো আপনি ইন্টারনেট থেকে ক্রেতা সংগ্রহ করবেন। সেই ক্ষেত্রে ইন্টারনেটে একটি সাইটকে প্রচার করার বিষয়টা অনেক বেশি জরুরী। আপনার মার্কেটিং কৌশল অফ লাইন এবং অনলাইনের সংমিশ্রনে হতে হবে। কিন্তু অনলাইন মার্কেটিংয়ে আপনার ব্যর্থতা কিংবা সফলতাই ঠিক করে দেবে আপনার অনলাইন ব্যবসার ভবিষ্যত। আপনি প্রথমেই যে টার্গেট গ্রুপকে নির্দিস্ট করেছিলেন তাদের কাছে পৌছানো , তাদেরকে ক্রেতা বানানো, তাদের ধরে রাখার জন্য সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, ইমেইল মার্কেটিংসহ অনলাইনের আরো যে যে মার্কেটিং কৌশল আছে সবগুলো সঠিকভাবে কাজে  লাগাতে হবে। সফল মার্কেটিং এর উপরই আপনার ব্যবসার সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করছে। 

ক্রেতার কাছে পণ্য পৌছানো

ক্রেতার কাছে নিরাপদে পণ্য পৌঁছানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একজন ক্রেতা পণ্য অর্ডার করার পর যত দ্রুত আপনি পণ্যটি তার কাছে পৌঁছাতে পারবেন আপনার ব্যবসার জন্য তত সুফল বয়ে আনবে। তাই পণ্য সরবরাহের বিষয়টি আপনাকে সব থেকে বেশি খেয়াল রাখতে হবে। আপনি ক্রেতার কাছে কয়েকটি উপায়ে পণ্য পাঠাতে পারেন।

১) নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থার মাধ্যমে
২) থার্ড পার্টি কুরিয়ারের মাধ্যমে
৩) ই-কমার্স পণ্য সরবরাহকারীদের মাধ্যমে।

ই-কমার্স বিজনেসের শুরুতে থার্ড পার্টি কুরিয়ার ব্যবহার করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রোডাক্ট ডেলিভারি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ই-কমার্স প্রোডাক্ট ডেলিভারি পোস্টটি পড়ুন। 

লেখা ভাল লাগলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

ধন্যবাদ
– সোহেল রানা, সানশাইন
By | 2017-10-26T06:51:07+00:00 August 27th, 2017|ই-কমার্স|

Leave A Comment